আপনার পোস্টের মূল বক্তব্য—অপরাধ, সহিংসতা বা সন্ত্রাসকে কোনো একটি ধর্মের সঙ্গে একচেটিয়াভাবে জুড়ে দেওয়া বৈজ্ঞানিক ও নৈতিকভাবে ভুল—এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপনি যে পরিসংখ্যানগুলো দিয়েছেন, তার বেশ কিছু ভুল, পুরোনো, উৎসহীন বা পরস্পর তুলনাযোগ্য নয়। এগুলো 그대로 পোস্ট করলে আপনার যুক্তির শক্তি কমে যেতে পারে।
বিশেষ করে “পতিতাবৃত্তির সর্বোচ্চ দেশ”–এর তালিকাটি কোনো নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সরকারি র্যাঙ্কিং হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। একইভাবে “সবচেয়ে বড় মাদক দল”, “সবচেয়ে বিপজ্জনক দল” ইত্যাদির তালিকাও নির্দিষ্ট ও অভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচক নয়।
অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে অবশ্য WHO-এর পরিমাপযোগ্য সূচক আছে—১৫+ বয়সী জনগোষ্ঠীর মাথাপিছু pure alcohol consumption। এটি “অ্যালকোহল আসক্তি”র সমার্থক নয়। WHO-ও consumption ও alcohol-use disorder-কে আলাদা ধারণা হিসেবে বিবেচনা করে। �
World Health Organization +1
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আমেরিকার আদিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে গবেষণায় ব্যাপক পরিসর রয়েছে—প্রাক-কলম্বিয়ান জনসংখ্যার হিসাবই আনুমানিক ৮–১১২ মিলিয়ন পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়েছে। তাই নির্দিষ্টভাবে “১০০ মিলিয়ন হত্যা” বা “৫০ মিলিয়ন হত্যা” বললে প্রমাণের চেয়ে বেশি নিশ্চিত দাবি করা হয়। �
Wikipedia +1
তবে আপনার মূল প্রশ্নটি যথার্থভাবে তোলা যায়: কোনো অপরাধীর ধর্ম দেখে পুরো ধর্মের কোটি কোটি মানুষকে অপরাধী বানানো কি যুক্তিসঙ্গত?
না।
জাতিসংঘ নিজেই বলেছে, violent extremism কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, জাতীয়তা বা বিশ্বাসের একচেটিয়া বিষয় নয়। � জাতিসংঘের নথিতেই আরও বলা হয়েছে যে সন্ত্রাসবাদের একটি সর্বজনস্বীকৃত একক সংজ্ঞা নিয়ে দীর্ঘদিন মতভেদ রয়েছে; একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে একীভূত করা উচিত নয়—এমন বক্তব্যও জাতিসংঘের আলোচনায় এসেছে। �
United Nations
UN Press +1
আপনার ফেসবুক পোস্টটি আমি তথ্য যাচাই করে, অতিরঞ্জিত দাবিগুলো বাদ দিয়ে এবং মুসলিম-অমুসলিম উভয়ের প্রতি ন্যায়সঙ্গত অবস্থান রেখে এভাবে সাজানোর পরামর্শ দেব:
অপরাধের কি কোনো ধর্ম আছে?
একটি প্রশ্ন করা যাক—
যদি কোনো দেশে পতিতাবৃত্তি বেশি হয়, তাহলে কি সেই দেশের ধর্মকে পতিতাবৃত্তির জন্য দায়ী করা যায়?
কোনো দেশে চুরি বেশি হলে কি সেই দেশের ধর্মই চোর তৈরি করে?
অ্যালকোহল সেবন বেশি হলে কি সেই ধর্মের অনুসারীরাই অ্যালকোহল আসক্ত?
হত্যার হার বেশি হলে কি বলা যায়—“এই ধর্ম মানুষ হত্যা শেখায়”?
উত্তর অবশ্যই—না।
তাহলে একই যুক্তি মুসলমানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা কোনো ইসলামী পরিচয় ব্যবহারকারী সন্ত্রাসী সংগঠন অপরাধ করলে তার অপরাধের বিচার অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই অপরাধের দায় পৃথিবীর প্রায় দুইশ কোটি মুসলমানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একই সঙ্গে অন্যায় ও যুক্তিহীন।
একইভাবে কোনো খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি বা নাস্তিক অপরাধী হলে তার অপরাধকে পুরো ধর্ম বা মতাদর্শের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতিহাসও আমাদের সতর্ক করে
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পেছনে ছিল ইউরোপীয় শক্তিগুলোর জোটরাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদ, জাতীয়তাবাদ এবং রাজনৈতিক সংকট।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনায় নাৎসি জার্মানির আগ্রাসন ছিল কেন্দ্রীয় ঘটনা।
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের দীর্ঘ ইতিহাসে যুদ্ধ, দখল, রোগ, উচ্ছেদ ও ব্যাপক জনসংখ্যা-হ্রাস ঘটেছে।
আফ্রিকান দাস বাণিজ্যও ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও নিষ্ঠুর শোষণব্যবস্থা।
কিন্তু এসব ইতিহাস উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে “খ্রিস্টানরা”, “ইউরোপীয়রা” বা “অমুক ধর্মের মানুষ” সবাই অপরাধী।
অপরাধের দায় অপরাধীর।
ঠিক একই নীতি মুসলমানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সন্ত্রাসবাদ: ধর্ম নয়, কাজের বিচার
এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য আছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের সর্বজনস্বীকৃত একক সংজ্ঞা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে সন্ত্রাসবাদকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে একীভূত করা উচিত নয়।
জাতিসংঘের একটি নির্দেশিকায় সাধারণভাবে এমন কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদের আওতায় বিবেচনা করা হয়েছে যেখানে সাধারণ জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি বা সরকার/আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জোরপূর্বক কিছু করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে গুরুতর সহিংসতা বা হত্যার মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়।
অতএব—
মুসলিম করলে সন্ত্রাস, অমুসলিম করলে অপরাধ—এমন দ্বৈত মানদণ্ড অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
কিন্তু উল্টো দিকের ভুলটিও করা যাবে না।
অমুসলিম কেউ অপরাধ করেছে বলে “অমুসলিমরাই অপরাধী”—এ কথাও সত্য নয়।
প্রকৃত শিক্ষা
ধর্ম দিয়ে অপরাধের পরিমাণ মাপা নয়—
অপরাধ দিয়ে অপরাধীর বিচার করতে হবে।
রাষ্ট্রের কাজ হলো নাগরিকের ধর্ম না দেখে আইন প্রয়োগ করা।
গণমাধ্যমের কাজ হলো পরিচয় নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করা।
আর আমাদের কাজ হলো কোনো ভাইরাল তালিকা দেখেই বিশ্বাস না করা—উৎস, সংজ্ঞা, সময়কাল ও তথ্যের পদ্ধতি যাচাই করা।
কারণ “অমুক ধর্মের দেশগুলোতে অপরাধ বেশি”—এমন একটি তালিকা দেখিয়ে কোনো ধর্মকে খারাপ প্রমাণ করা যেমন বৈজ্ঞানিক নয়, তেমনি “অমুক ধর্মের দেশগুলোতে অপরাধ বেশি নয়”—এমন তালিকা দেখিয়েও কোনো ধর্মকে ভালো প্রমাণ করা যায় না।
মানুষকে তার ধর্মের পরিচয়ে নয়, তার কর্মের মাধ্যমে বিচার করাই ন্যায়।
সত্যের পক্ষে থাকি।
দ্বৈত মানদণ্ডের বিরুদ্ধে থাকি।
মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে নিরপরাধ মানুষের পক্ষে থাকি।
#GiasBlog101
#GiasBlogs101
#GiasThoughts
#TruthNotPropaganda
#FactCheck
#NoDoubleStandards
#JusticeForAll
#HumanityFirst

Post a Comment