Top News

💊 বয়কট নয়, জবাবদিহিতা চাই! মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের দায় কার? কোম্পানি, কেমিস্ট, নাকি সরকারের?

💊 বয়কট নয়, জবাবদিহিতা চাই! মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের দায় কার? কোম্পানি, কেমিস্ট, নাকি সরকারের?



বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির পক্ষ থেকে ১৫ জুলাই থেকে একটি ওষুধ কোম্পানিকে বয়কটের ঘোষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কি শুধু একটি কোম্পানির সমস্যা, নাকি পুরো ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট?

বাস্তবতা হলো, ফেসবুক পোস্টের শত শত মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে আসে।

⚠️ ১. মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রতিস্থাপনে দীর্ঘসূত্রতা বাস্তব সমস্যা

অনেক কেমিস্টের অভিযোগ—

এক্সপায়ারি ওষুধ ফেরত নিতে মাসের পর মাস দেরি হয়।

MR, Area Manager বা RSM-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কোম্পানি দ্রুত টাকা নিলেও এক্সপায়ারি সাপোর্টে ধীরগতি দেখা যায়।

যদি এমনটি ঘটে থাকে, তাহলে এটি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ।

⚠️ ২. আবার কেমিস্টদের দিকেও প্রশ্ন আছে

অনেক মন্তব্যে উঠে এসেছে—

✔️ প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ পরিবর্তন করা।

✔️ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি স্টক নেওয়া।

✔️ তাক নিয়মিত পরীক্ষা না করায় ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া।

✔️ স্যাম্পল, গিফট বা বিভিন্ন সুবিধার প্রত্যাশা।

এসব অভিযোগ সত্য হলে সেগুলিও আত্মসমালোচনার দাবি রাখে।

⚠️ ৩. মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (MR)-রাও চাপের মধ্যে

অনেক MR বলেন—

টার্গেট পূরণের চাপ।

অডিটের জবাবদিহিতা।

সীমিত ক্ষমতা নিয়ে এক্সপায়ারি সমস্যার সমাধান করতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে না।

অর্থাৎ সব দোষ মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উপর চাপিয়ে দিলেও সমস্যার সমাধান হবে না।

⚠️ ৪. রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—

👉 রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ পাওয়া নিশ্চিত করা।

👉 কোনো আন্দোলনের কারণে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সংকট সৃষ্টি না হওয়া।

👉 প্রেসক্রিপশন পরিবর্তন বা বিকল্প ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন ও চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা।

রোগীর স্বার্থই সবার আগে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আবেদন

✅ DGDA (ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর)

✅ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

✅ ঔষধ শিল্প সমিতি

✅ বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি

সব পক্ষকে নিয়ে একটি কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।

আমাদের প্রস্তাব

✅ জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল Expiry Return System চালু করা।

✅ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এক্সপায়ারি প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করা।

✅ প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি নিশ্চিত করা।

✅ কোম্পানি, কেমিস্ট ও MR—সবার জন্য স্বচ্ছ নীতিমালা প্রয়োগ।

✅ নিয়মিত মনিটরিং ও আইন বাস্তবায়ন।

মনে রাখুন

💊 কোম্পানি ছাড়া কেমিস্ট চলবে না।

💊 কেমিস্ট ছাড়া কোম্পানি চলবে না।

💊 আর রোগী ছাড়া কারও ব্যবসাই চলবে না।

তাই সংঘাত নয়, সমাধানই হোক অগ্রাধিকার।

স্বাস্থ্যসেবা কোনো পক্ষের একার বিষয় নয়—এটি জনস্বার্থের বিষয়।

আলোচনার জন্য প্রশ্ন

👉 আপনার দোকানে কি এক্সপায়ারি ওষুধ সময়মতো কোম্পানি নিয়ে যায়?

👉 প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ পাওয়া কি সব সময় নিশ্চিত হয়?

👉 আপনার মতে সমাধান কী?

আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা লিখুন। তথ্যভিত্তিক আলোচনা হোক, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।

#হ্যাশট্যাগ

#SKF #Medicine #ExpiredMedicine #Chemist #Druggist #Pharmacy #DGDA #Bangladesh #Healthcare #PatientSafety #DrugPolicy #MedicalRepresentative #PublicHealth #Transparency #Accountability #PharmacyBusiness #BangladeshHealthcare #গিয়াসব্লগ১০১ #GiasBlogs101 #GiasThoughts #জনস্বাস্থ্য #ঔষধ #কেমিস্ট #ড্রাগিস্ট #রোগীর_অধিকার #স্বচ্ছতা #জবাবদিহিতা #বাংলাদেশ

Post a Comment

Previous Post Next Post