২৫৫. আল্লাহ(১), তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই(২) তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক(৩)। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্ৰাও নয়(৪)। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তার(৫) কে সে, যে তার অনুমতি ব্যতীত তার কাছে সুপারিশ করবে(৬)? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।(৭) আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তার জ্ঞানের কোন কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না(৮)। তার কুরসী আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে(৯); আর এ দু’টোর রক্ষণাবেক্ষণ তার জন্য বোঝা হয় না(১০)। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান(১১)।
"আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি আল-হাই (চিরঞ্জীব), আল-কাইয়্যুম (সকল সত্তার ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী)।"
"আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই"
এর অর্থ শুধু এই নয় যে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে উপাসনা করা উচিত নয়; বরং প্রকৃতপক্ষে উপাসনা পাওয়ার যোগ্য একমাত্র সত্তাই আল্লাহ।
তিনি সৃষ্টিকর্তা।
তিনি সর্বশক্তিমান।
তিনি সর্বজ্ঞ।
তিনি সকল নিয়ন্ত্রণের মালিক।
তাই ইবাদত, প্রার্থনা, ভয়, আশা ও চূড়ান্ত আনুগত্য কেবল তাঁরই প্রাপ্য।
"তিনি চিরঞ্জীব" (আল-হাই)
"চিরঞ্জীব" অর্থ এমন জীবন যা:
কখনো শুরু হয়নি,
কখনো শেষ হবে না,
কোনো ঘুম, ক্লান্তি বা মৃত্যুর অধীন নয়।
মানুষ, প্রাণী, ফেরেশতা—সব সৃষ্টি জীবন পেয়েছে এবং একদিন মৃত্যু বরণ করবে। কিন্তু আল্লাহর জীবন স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অনন্ত।
"চিরসত্তার ধারক" (আল-কাইয়্যুম)
এটি অত্যন্ত গভীর একটি গুণ।
এর অর্থ:
আল্লাহ নিজে কারো উপর নির্ভরশীল নন।
বরং সমস্ত সৃষ্টি তাঁর উপর নির্ভরশীল।
তিনি প্রতিক্ষণ মহাবিশ্বকে টিকিয়ে রাখছেন।
তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতা ছাড়া কিছুই অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না।
যেমন:
হৃদপিণ্ডের স্পন্দন,
নক্ষত্রের গতি,
বায়ুর প্রবাহ,
জীবনের ধারাবাহিকতা—
সবই তাঁর ব্যবস্থাপনায় চলছে।
সংক্ষেপে
এই একটি বাক্যে আল্লাহ সম্পর্কে তিনটি মৌলিক সত্য ঘোষণা করা হয়েছে:
তিনি একমাত্র উপাস্য।
তাঁর জীবন অনন্ত ও অবিনশ্বর।
সমস্ত অস্তিত্ব তাঁর উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তিনি কারো উপর নির্ভরশীল নন।
তাই এই বাক্যটি শুধু তাওহীদের ঘোষণা নয়; এটি মানুষের অসহায়ত্ব এবং আল্লাহর পরম স্বয়ংসম্পূর্ণতারও ঘোষণা।

Post a Comment