এই মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে শুধু “দালাল” বলার আগে একটা প্রশ্ন করুন—এই সিস্টেমটা তৈরি করেছে কে?
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কি জন্মগতভাবে খারাপ?
নাকি একটা ভয়ংকর অসুস্থ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিতরে টিকে থাকার জন্য বাধ্য শ্রমিক?
এই দেশে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট ছেলে-মেয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক, চেম্বার ঘুরে বেড়ায়।
টার্গেট ফিলাপ না হলে চাকরি যায়।
ডাক্তার ভিজিট কম হলে অপমান হয়।
সেল না হলে বেতন ঝুলে যায়।
তারপর একদিন “দালাল” ট্যাগ লাগিয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
🔹 প্রতিদিন ডাক্তার ভিজিট বাধ্যতামূলক করলো কে?
🔹 প্রেসক্রিপশনভিত্তিক কমিশন সংস্কৃতি চালু করলো কে?
🔹 “এই ওষুধ লিখলে এত টাকা” — এই নোংরা প্রতিযোগিতা বানালো কে?
🔹 রোগীর প্রেসক্রিপশনের ভিতরে মার্কেটিং ঢুকতে দিল কে?
একটা ওষুধের দামের ভিতরে শুধু উৎপাদন খরচ থাকে না—
অনেক সময় যুক্ত হয়: ▪️ প্রচারণা খরচ
▪️ গিফট
▪️ সেমিনার
▪️ কমিশন
▪️ টার্গেট বোনাস
▪️ ডাক্তার ম্যানেজমেন্ট
▪️ বাজার-সদাই থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা পর্যন্ত!
আর শেষ পর্যন্ত এই পুরো খরচ বহন করে কে?
রোগী।
সাধারণ মানুষ।
একজন অসহায় বাবা।
তবে এটাও সত্য—
সব রিপ্রেজেন্টেটিভ দুর্নীতিবাজ না।
অনেকেই পরিবার চালানোর জন্য অসম্ভব কষ্টের চাকরি করছে।
করোনার সময় যখন শহর বন্ধ ছিল, তখনও এদের অনেককে মাঠে থাকতে হয়েছে।
তাই সমস্যার মূল শুধু “রিপ্রেজেন্টেটিভ” না।
সমস্যা হলো পুরো কমিশনভিত্তিক অসুস্থ চিকিৎসা-বাণিজ্য সংস্কৃতি।
সমাধান কী?
✔️ প্রেসক্রিপশন কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন
✔️ ডাক্তার-ফার্মা আর্থিক সম্পর্ক স্বচ্ছ করা
✔️ ওষুধ মার্কেটিং নীতিমালা আধুনিক করা
✔️ রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা
✔️ রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা
মনে রাখবেন—
যে সিস্টেমে চিকিৎসা ব্যবসায় পরিণত হয়, সেখানে রোগী সবচেয়ে বড় শিকার হয়।
আর সেই সিস্টেমে অনেক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভও আসলে “স্লেভ” ছাড়া কিছু না।
#MedicalRepresentative
#HealthcareSystem
#PharmaBusiness
#PrescriptionPolitics
#বাংলাদেশ
#স্বাস্থ্যব্যবস্থা
#ওষুধ_মাফিয়া
#রোগীর_অধিকার
Post a Comment